ঘূর্ণিঝড় কোমেন দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে লণ্ডভণ্ড করে গেছে কক্সবাজারের টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া ও শাহপরীর দ্বীপ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান, নোয়াখালী, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, লক্ষ্মীপুর, ভোলাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে আট নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘূর্ণিদুর্গত সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রামের নিন্মাঞ্চল, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার নিন্মাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন চরে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। খুলনা ও সতক্ষীরায় প্রবল বর্ষণে ও জলোচ্ছ্বাসে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বান্দরবানে গাছ চাপা পড়ে একজন নিহত হয়েছে।

 কক্সবাজার (দক্ষিণ) সংবাদদাতা গোলাম আজম খান জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরেছে উপকূলীয় লোকজন। গতকাল ভোর থেকেই তারা ঘরে ফেরা শুরু করে। অপর দিকে কক্সবাজারে এখনো বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ। চকরিয়াতে নতুন করে আবারো বন্যার পানি বাড়ছে। ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় কোমেনের আঘাতে জেলার টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন ও কুতুবদিয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে তৎমধ্যে টেকনাফে সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ,বাহারছড়া ইউনিয়নেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার বসতবাড়ি। অপর দিকে কুতুবদিয়ায় প্রায় ৬০০ বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ দিকে সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। টেকনাফ সদর থেকে কোনো ধরনের কাঁচামাল আনানেয়া করা যাচ্ছে না। ফলে অর্থনৈতিকভাবেও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার বাসিন্দারা। 

প্রায় সপ্তাহ ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথ বন্ধ থাকায় এবং টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপের সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ দিকে অবিরাম ভারী বর্ষণ এবং ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবের সাথে পূর্ণিমার জোয়ারে শাহপরীর দ্বীপের নিন্মাঞ্চল আরো বেশি প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি ছাড়াও খাদ্যের অভাবে অর্ধাহারে ও অনাহারের মধ্যে চরম হতাশায় জীবনযাপন করছে অনেকেই। টেকনাফের উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান জাফর আহমদ জানিয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিটের যাত্রী ও সেন্টমার্টিনে পারাপারের নৌ-চলাচল সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। চলাচল বন্ধ রয়েছে স্থল বন্দরের সব ধরনের মালামাল বহনের ট্রলার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জলোচ্ছ্বাসে সদর উপজেলার ছয়টি, রামুর একটি, চকরিয়ার চারটি, পেকুয়ার চারটি, কুতুবদিয়ার সাতটি, মহেশখালির তিনটি, উখিয়ার একটি ও টেকনাফের তিনটি ইউনিয়ন কোমেনের প্রভাবে তিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজারের দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর জানান, তির পরিমাণ হিসাব করা হয়নি। তবে তিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কমল উদ্দীন মুকুল জানান, দুর্যোগে সার্বিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সব চিকিৎসক ও নার্সের ছুটি বাতিল এবং পুরো জেলায় ৮৮টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। তার মধ্যে ৭১টি হল প্রত্যেকটি ইউনিয়নে। আর ১৭টি হল ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম।

সেন্টমার্টিন প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, গত বুধবার রাত ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা ধরে বয়ে যাওয়া ভয়ানক কোমেনে তবিত করে দেয় বসবাসরত ১০ হাজার মানুষের সেন্টমার্টিনকে। এতে ভেঙে যায় প্রায় ১৩০০ ঘরবাড়ি। নষ্ট হয়ে যায় ঘরে থাকা আসবাপত্রসহ সব প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। ভেঙে পড়ে সব ধরনের গাছ। মরে যায় কয়েক শ’ গবাদি পশু। হারিয়ে যায় থাকার একমাত্র ঘরের চিহ্নটিও।

উড়ে যায় ঘরের ছাউনি এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। পানিতে তলিয়ে যায় ফসলি জমি। হারিয়ে যায় দুইটি ফিশিং ট্রলার, একটি সার্ভিস বোট, ডুবে যায় ছোট বড় আটটি নৌকা। এতে সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রায় তিন কোটি টাকার তি হয়। গাছচাপা পড়ে মরে যায় দিনমজুর মো: ইসলাম (৫০)। 

তিনি আরো জানান, টেকনাফের সাথে যোগাযোগ বিকল ঘটার কারণে টেকনাফ থেকে ত্রাণ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দ্বীপের ৩০ হাজার বাসিন্দা। ঝড়ের আঘাতে পড়ে গেছে বহু গাছপালা। গাছ পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি।

পেকুয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, পেকুয়ার চার দিকে বেড়িবাঁধের ১০টি পয়েন্টে ভয়াবহ ভাঙনে লোকালয় এখন জোয়ারভাটায় পরিণত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে চার ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ দিকে বন্যার পানি কমতে না কমতেই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বার্মারটেক, তেইল্যাকাটা, পুরুইত্যাখালী রাবার ড্যাম এলাকা, মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া, শরতঘোনা, উত্তরপাড়া, উজানটিয়া ইউনিয়নের টেকপাড়াসহ পেকুয়ার চার দিকে অন্তত ১০টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধের ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। একেকটি ভাঙন ১০-৪০ চেইন পর্যন্ত বিস্তৃত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাঁচ দিন ধরে বন্যা ও জোয়ারভাটার পানিতে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে পেকুয়ার ৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, প্রায় ৮০টি ব্যক্তি মালিকনাধীন দালানে লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এক দিকে বন্যার পানি, অন্য দিকে ঘূর্ণিঝড় কোমেন আতঙ্কে স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এ দিকে চার দিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লক্ষাধিক মানুষের খাদ্য ও পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পেকুয়ায় এখন পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি।

চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে এখানে গাছপালা ভেঙে পড়ে ও বাতাসে সহস্রাধিক ঘরবাড়ির ব্যাপক তি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জোয়ার-ভাটা চলছে। এসব এলাকার যোগাযোগের অভাবে এলাকাবাসী অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উখিয়ার ৫ ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ কিলোমিটার গ্রামীণ জনপদ। এসব জনপদের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে এখনো পানিবন্দী হয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে হাজারো মানুষ। অনেক স্থানে নৌকা দিয়ে যোগাযোগ করলেও প্রত্যন্ত জনপদের অধিকাংশ গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। 

পালংখালী এলাকা ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারের গাফেলতির কারণে বটতলী, ফারিরবিল সড়কে নির্মাণাধীন কার্পেটিং সড়ক বন্যা ও ঢলের পানিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে এসব এলাকার জনগণকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদাদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার নিন্মাঞ্চলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। গতকাল দুপুরে মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট বাড়লে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে ওইসব এলাকার কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে কয়েক শ’ পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানিতে তলিয়ে রয়েছে হাজার হাজার হেক্টর আউশ ধান ক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা।

এলাকাবাসী জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে গত দু’দিন রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণ হয়। একই সাথে শুক্রবার দুপুরে মেঘনার জোয়ারের পানি বেড়ে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। এতে করে রামগতি উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকা চরগজারিয়া, তেলিরচর, চরআলেকজান্ডার, চরআলগী ও বড়খেরী এবং কমলনগর উপজেলার দক্ষিণ চরফলকন, চরফলকন, চরজগবন্ধু, সাহেবেরহাট, চরকালকিনি ও মতিরহাট এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। পানিবন্দী হয়ে পড়েন হাজার হাজার মানুষ এবং পানিতে তলিয়ে যায় কয়েক হাজার হেক্টর আউশ ধান ক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা।

তারা আরো জানান, জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ওইসব এলাকার কয়েক শ’ পুকুর ও মৎস্য ঘেরের মাছ ভেসে যায়। এতে মৎস্যচাষিরা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীতে ৭ দিনের টানা ভারী বর্ষণ ছোট ফেনী নদী এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে ভারতের ধেয়ে আসা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে জেলার ৮টি উপজেলার শত শত গ্রাম। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে ভারী টানা বৃষ্টি হওয়ায় এবং বন্যার ধেয়ে আসা পানিতে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটেছে। জেলা শহর মাইজদী জেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী পৌর সভার করিমপুর, হাজীপুর, গনিপুর উপজেলার নরোত্তমপুর, মিরওয়ারীশপুর, গোপালপুর, দুর্গাপুর, কুতুবপুর, সোনাইমুড়ী উপজেলার বানুয়াই, কুশুল্লার বাগ, পাপুয়া, সোনাইমুড়ী. কাঁঠালী, সেনবাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও সেনবাগ পৌরসভার সব ক’টি গ্রামের অবস্থা নাজুক। এ সময় এলাকার অনেকে বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্রে চলে গেছে। বন্যার পানিতে বাড়িঘর রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় কার্যত ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। 

সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, টানা ভারী বর্ষণে ছোট ফেনী নদীর প্রবল স্রোতে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় গতকাল আরো বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৯টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকাসহ প্রায় ১১১টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, স্কুল-মাদরাসা পানিতে ডুবে যাওয়ায় উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত মৎস্য খামার। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী না পাওয়ায় অনেক মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রত্যেকের ঘরে সংগ্রহে রাখা ধান ও চাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এসব এলাকার অনেকের ঘরের চুলোয় আগুন জ্বলেনি, রান্নার করতে না পারায় শ’ শ’ পরিবারের লোকজন অর্ধাহারে দিন যাপন করছে। গৃহপালিত গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও বিপাকে পড়েছে মানুষ। সেখানে চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার।

এলাকাবাসী ভেলা ও নৌকায় করে যাতায়াত করছে। উপজেলার সাথে যোগাযোগের শাখা সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় মানুষের দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। এক অবর্ণনীয় অবস্থা বিরাজ করছে সর্বত্র। 

এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা আরো ভেঙে পড়েছে। অবিরাম বৃষ্টিতে হাজার হাজার একর জমির সবজি গাছ নষ্ট হওয়ায় চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। 

খুলনা ব্যুরো জানায়, একটানা বৃষ্টি এবং পানি নিষ্কাশনের সুযোগ না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছে খুলনাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার কৃষক। তিল, আউশ, পান ও শাকসবজি পচতে শুরু করেছে। এখনো পানির নিচে রয়েছে আমন বীজতলা। এরই মধ্যে তিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার হেক্টর জমির কৃষিপণ্য।

গত জুলাই মাসে দুই দফা একাটানা বর্ষণের ফলে খুলনার দাকোপ উপজেলার ৩৩ পোল্ডার ও বাগেরহাটের শরণখোলার ৩৫/১ পোল্ডার দিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, তিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে খুলনার দাকোপ, ডুমুরিয়া, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা ও রূপসা, সাতীরার সদর, কলারোয়া ও তালা, বাগেরহাটের সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, মোরেলগঞ্জ, চিতলমারী ও শরণখোলা। আমন বীজতলা পানিতে নিমজ্জিতের পাশাপাশি তিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ, তিল, পাট, পানের বরজ এবং নানাজাতের শাকসবজি। সূত্র মতে, খুলনায় ৬৪২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ১৪০ হেক্টর আউশ ধান, ৪৮৯ হেক্টর জমির শাকসবজি। সাতীরায় ৪৮৫ হেক্টর আমন বীজতলা, এক হাজার ৭৫ হেক্টর আউশ, ৯০০ হেক্টর শাকসবজি এবং বাগেরহাট জেলায় ১৩০ হেক্টর আমন বীজতলা, ২০ হেক্টর শাকসবজি ও ১৫ হেক্টর পানের বরজ তিগ্রস্ত হয়েছে। 

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানির তোড়ে চিত্রা নদীর পাশের বেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু লোকজন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব পরিবারের সদস্য। 

সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত, বিবিসি বাংলা