জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এখন পরিক্ষিত। তাই এর জলবায়ুর ক্ষতিকর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবেলায় বৈশ্বিক নেতাদেও ইতিবাচক অঙ্গীকার সময়ের দাবী। বৈশ্বিক নেতাদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে নাগরিক সমাজের অব্যাহত ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষাবীদ ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ-এর নতুন বই ‘পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন : বাংলাদেশ ও সমসায়িক বিশ্ব’-এর উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। এসময় বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান পৃথিবীতে সামরিক যুদ্ধের চেয়ে ভয়বহ সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে জলবায়ূ পরিবর্তনের সমস্যা। । যেভাবে দেশে দেশে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব পড়ছে তাতে আগামী দিনে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে বলেও মনে করেন বক্তারা।
সোমবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইর্কের জ্যামাইকাস্থ সাপ্তাহিক বাংলাদেশ কার্যালয়ে পত্রিকাটি’র উদ্যোগে উল্লেখিত বইয়ের উপর আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শু লেখক ড. আশরাফ সিদ্দিকীর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন সভার উপস্থাপক ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু।


সভার আলোচনায় অংশ নেন সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিকর্ বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও লেখক কাজী জহিরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, পরিবেশ অ্যাক্টিভিষ্ট সৈয়দ ফজলুর রহমান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, , গ্রীনবার্তা ডট কমের সম্পাদক ও স্টেইট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক এর শিক্ষক ইমরান আনসারী, মুক্তচিন্তার সম্পাদক ফরিদ আলম, অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম সাংবাদিক আব্দুস শহীদ, সাংবাদিক/লেখক রশন হক, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গণি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আল আমীন রাসেল, এডভোকেট মজিবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ইমদাদুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি সৈয়দ নাজমুল ইসলাম কুবাদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট রাজিয়া নাজমী, কাজী ফৌজিয়া, মুক্তি জহির, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর সাংবাদিক মোহাম্মদ আজাদ প্রমুখ।


ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ তার ‘পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন : বাংলাদেশ ও সমসায়িক বিশ্ব’ গ্রন্থ প্রকাশের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, চাকুরী জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা পরিবেশগত নানা সমস্যাই আমাকে পরিবেশ নিয়ে লেখালেখিতে উৎসাহ যুগিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে লেখা নিয়েই গ্রন্থটি প্রকাশিত হলো। এজন্য তিনি সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সহ সংশ্লিস্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আগামী দিনে বউটির দ্বিতীয় সংস্করণে ভুলত্রুটি শুধরানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন ইতিমধ্যেই গ্রন্থটি পাঠক প্রিয় হয়ে উঠেছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থটি চাওয়া হয়েছে। আমার বিশ্বাস পরিবেশন নিয়ে যারা ভাবেন, চিন্তা করেন, লেখালেখি করেন, গবেষনা করেন তাদের গ্রন্থটি উপকারে আসবে।
কবি কাজী জহির বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।তা স্বত্তে¡ও সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। যা দুর্ভাগ্যজনক।

ইমরান আনসারী বলেন , সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও ফলে বাংলাদেশের দু’কোটি লোক বাস্তুচ্যুত হবেন। যার জন্য দায়ী শিল্পন্নত দেশগুলো। এসব বাস্তুচ্যুত মানুষদেও জীবনধারার জন্য এখনই আমাদেও কে ভাবতে হবে , আওয়াজ তুলতে হবে। আমাদের সামাজিক , রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনায় ।