মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত যশোর রোডের শত বছরের স্মৃতি চিহ্ন গাছ কাটার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আমেরিকা প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিক সমাজের নেতারা। সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কে যশোর এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত সমাবেশে এ প্রতিক্রিয়া জানান তারা। এছাড়াও নিজেদের উদ্যোগে যশোরের মনিরামপুরে ভাসমান সেতু তৈরী করার জন্য এলাকাবাসীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান বক্তারা।


মনিরুল ইসলাম মনিরে সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শওকত আলী, টাইম টেলিভিশনের সিইউ আবু তাহের , বাংলাদেশ সরকারের সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইমরান আনসারী, মাওলানা ফায়েক উদ্দিন , মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ খন্দকার , গ্রেটার কুমিল্লা সোসাইটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক , সাফকাত হোসেন, আবিদুর রহমান, আনয়ার জাহিদ, এডভোকেট আবুল হোসাইন প্রমূখ।
অধ্যাপক শওকত আলী বলেন, যশোর রোডের গাছ হাত দেয়ার অর্থই হচ্ছে আমাদের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি চিহ্নে আঘাত হানা। এটি কোনোভাবেই আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নেবে না।
তিনি আরো বলেন, সরকারেরর উন্নয়ন কর্মকান্ড রাজধানী কেন্দ্রিক । যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ মনিরামপুরে নিজস্ব উদ্যোগে ভাসমান সেতু নির্মাণ। এটি এখন সারা বিশ্বের সামাজিক সংহতির নজির হয়ে দাড়িয়েছে।
আবু তাহের বলেন, উন্নয়ন কর্মকান্ডে সরকারের সম বন্টন নীতির ত্রুটি ফুটে উঠেছে মনিরামপুরে যুবকদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত ভাসমান সেতুটি।
ইমরান আনসারী বলেন, উন্নয়নের নামে সুন্দরবণকে হারাতে বসেছি। এখন রাস্তা উন্নয়নের নামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত গাছগুলোকে হারাতে বসেছি। এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় তিনি এলেন গিন্সবার্গ রচিত বিখ্যাত সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মনিরামপুরে ভাসমান সেতু নির্মানকারীদের ধণ্যবাদ জানাতে মোবাইলে সরাসরি কথা বলে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা। সেতুর অভাবে কি দুর্বিষহ জীবনধারণ করতে হয়েছে জাপাবাসীর তার করুণ চিত্র তুলে ধরেন এসময় মনিরামপুরের জাপা গ্রামের সাবেক স্কুল শিক্ষিকা ফরিদা পারভীন।