সুন্দরবনে দিনের পর দিন অগ্নি সংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ- বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি । শুক্রবার কমিটির পাঠানো ওই বিবৃতিতে  সুন্দরবনে ধ্বংসের জন্য সরকারের ভূমিকাকেই দায়ী করেন।  ওই বিবৃতিতে কমিটি দাবী করে সুন্দরবন বিনাশী সরকারি অপতৎপরতাই 
দুর্বৃত্তদের বনলুট ও অগ্নিসংযোগে উৎসাহিত করছে।

 

নিম্নে বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো:

“নানারকম বাহিনী মোতায়েন, কমিটি গঠন আর বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এই এপ্রিল মাসেই চারবার আগুন লেগে সুন্দরবন আক্রান্ত হলো। এর ক্ষতি অপরিমেয়। সুন্দরবনে একের পর এক অগ্নিকান্ড এবং সরকারের নির্লিপ্ত কিংবা দায়সারা ভূমিকা থেকে আমরা আশংকা করি যে, এসব অগ্নিকান্ড পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত। ‘কয়লায় পানি পরিষ্কার হয় এবং কয়লা ডুবিতে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না’ মর্মে প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হলে সুন্দরবন আরও সুরক্ষিত হবে’ মর্মে জ্বালানী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতির ভাষ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র, এর অতুলনীয় ইকোসিস্টেম, পশুপাখি গাছ লতাসহ অসংখ্য প্রাণের বসতি, কয়েক কোটি মানুষের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা বাঁধ ইত্যাদি নিয়ে এর গুরুত্ব বুঝতে সরকারের অনীহা এবং অক্ষমতাই প্রকাশ করে। এসব বক্তব্য প্রকৃতপক্ষে সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ক্রিয় হতে এবং সুন্দরবন বিনাশী তৎপরতায় যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সক্রিয় হতে শক্তি যোগায়। সেজন্যই আমরা দেখি একের পর এক আগুন লাগার পরও বাংলাদেশের এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকারের কোন কার্যকর তৎপরতা নেই। ইতিমধ্যে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যে, এই আগুন লাগানোর সাথে সরকারি দলের লোকজন জড়িত। বস্তুত প্রশাসনের সক্রিয় সমর্থন বা দায়িত্বপালনে নিষ্ক্রিয়তা ছাড়া কারও পক্ষে এধরনের কর্মকান্ড অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। 
“আমরা বহুবার সুন্দরবন বিনাশী সকল তৎপরতা বন্ধ করে এই বনের পুনরুৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ‘সুন্দরবন নীতিমালা’ প্রণয়ন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি। সুন্দরবন বিকাশে মানুষের হস্তক্ষেপ দরকার নাই, দরকার নাই বিশ্বব্যাংক ইউএসএআইডির প্রকল্প, দরকার সুন্দরবনকে মানুষের লোভী আগ্রাসন থেকে রক্ষা করবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। প্রকৃতপক্ষে সুন্দরবনের ঘাড়ের ওপর রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সরকারের একগুঁয়ে তৎপরতা সুন্দরবন বিনাশী তৎপরতায় নিয়োজিত স্থানীয়, জাতীয় ও বিদেশি সকল পক্ষকে আরও ধ্বংসাত্মক হতে উদ্বুদ্ধ করছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প কার্যত দুর্বত্তদের জন্য একটি চৌম্বক আকর্ষণী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। 
“আমরা আবারও সরকারকে মুনাফার অন্ধত্ব থেকে মুক্ত হয়ে চোখ খুলে সুন্দরবনের দিকে তাকাতে অনুরোধ করছি, এটি প্রকৃতির বিশাল সম্পদ, কাঠ বা জমি নয়। একইসঙ্গে সরকারের কাছে আবারও দাবি জানাচ্ছি রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী সকল তৎপরতা বন্ধ করুন, দুর্বৃত্তদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করুন, সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে বাংলাদেশকে বাঁচতে দিন।”