স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় তুষার ঝড় বয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে। দুই দিন ধরে চলা এ তুষার ঝড়ে প্রায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে ১৯২২ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী তুষার ঝড় । জর্জিয়া থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত ১১ টি অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রায় দশ হাজার ফ্লাইট ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী ১৩ টি অঙ্গরাজ্যের প্রায়  ২ লাখেরও বেশী বাড়িঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।  প্রায় ৬০ মিলিয়নের বেশী মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এ তুষার ঝড়ে। ধারণা করা হচ্ছে  প্রায় সারে চার মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হবে এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে। নিউ ইয়র্ক , ওয়াশিংটন ডিসি, বাল্টিমোর, ও ফিলাডেলফিয়ায় সকল ধরণের জনপরিবহন বন্ধ করা হয়েছে।

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও পার্শবর্তী ভার্জিনিয়ায় নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভার্জিনিয়া , মেরিল্যান্ড ও বাল্টিমোরে তুষারপাতের পাশাপাশি ঘন্টায় ৬০ মাইলেরও বেশী গতিতে বাতাস বইছে। ধারণা করা হচ্ছে এসব এলাকায় রোববার সকাল নাগাদ ৪০ইঞ্চি বরফ পড়বে। ভার্জিনিয়ায় হাজারের বেশী গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছে। এতে কোনো কোনো রাস্তাবরফ আচ্ছাদিত নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমান বন্দর একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে নিউ ইয়র্কে রাত যত গভীর হচ্ছে ততই তুষাড় ঝড়ের তীব্রতা পাচ্ছে। তুষার পড়ার এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২৫ থেকে ৩৫ ইঞ্চি বরফ জমার ধারণা করেছে ওয়েদার ডট কম। ইতোমধ্যে নিউ ইয়র্কে ২০ ইঞ্চি বরফ পড়েছে। ঘন্টায় ৩ ইঞ্চি করে নিউ ইয়র্কে বরফ পড়ছে।  নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র নাগরিকদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় ইতোমধ্যে নিউ ইয়র্ক সিটিতে জরুরি কাজে নিয়োজিত গাড়ী ব্যাতিত সকল যান চলাচল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে নিউ জার্সি ও লং আইল্যান্ডের যাতায়াতকারী সকল রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত সিটিতে ৩ শ ১২ টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় নামলে নিউ ইয়র্ক পুলিশ নাগরিকদের আটকের ঘোষনা দিয়েছে। নিউ ইয়র্কের সকল বিমান বন্দর বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস ও ব্রুকলিনের বাংলাদেশী মালিকানাধীন সকল দোকান পাট শনিবার দুপুরের পর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে।