বাংলাদেশের উজানে ভারতের অব্যাহত বাঁধ নির্মানের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে হুমকির মূখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে বাংলাদেশকে ট্রানজিট ইস্যু কাজে লাগাতে হবে বলে মনে করেন তারা। আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত বাংলাদেশের চূড়ান্ত মরুকরণ নিশ্চিত হবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।  পরিবেশের কথা বিবেচনা কওে এবিষয়ে ভারতের সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

 রোববার নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ কনভেনশন-এনএবিসির দু’দিন ব্যাপী সম্মেলনের  শেষ দিনে ‘নদী সমস্যার আঞ্চলিক সমাধান কি আস্তাকুড়ে ?’ এই শিরোনামে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব আর্কানসাস- এর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল । অলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন- বাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. নজরুল ইসলাম, পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. খালেকুজ্জামান। মূল প্রবন্ধে ড. জাহাঙ্গীর মোহম্মদ আদেল  ভারতের সাথে বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের চ্যালেঞ্জগুলো তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হলে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দলীয় স্বার্থেও উর্ধে উঠে জাতীয় স্বার্থে কাজ করতে হবে।  আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. খালেকুজ্জামান বলেন, ভারত উজানে বাঁধ দিয়ে নিজ থেকে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে ভারত বিরোধী কওে তুলছে। সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধওে তিনি বলেন, ৮০’র দশকে  নদী থেকে প্লাবন ভূমিকে বিচ্ছিন্ন করার একটি ভূল প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। যাতে বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি বদ্বীপের পলি মাটি দ্বারা গঠিত তা বিবেচনা না করেই। আর এতেই বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি এরশাদ সরকারের সময়ের ডিএনডি বাঁধকে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেন। ভারত থেকে নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে সরকারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেবার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও নদীর নব্যতা রক্ষায় টেকসই নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দেন ড. খালেকুজ্জামান। আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ভারতের কাছ থেকে নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দরকষাকষির একমাত্র হাতিয়ার ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়া। এক্ষেত্রে যদি সরকার উদাসীনতার পরিচয় দেয় তাহলে বাংলাদেশ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। যৌথ নদী কমিশনে বাংলাদেশের আমলাদেও ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে ড. নজরুল ইসলাম জানান, নভেম্বওে অনুষ্ঠিতব্য প্যারিসের জলবায়ূ সম্মেলনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি যারা এবিষয়ে অভিজ্ঞ তাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। যা বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে না।