ভারত প্রায় ১৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক একটি বৃহৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করেছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ দ্রুত নিচে নামতে থাকার বিষয় বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিল দেশটি; যদিও একসময় তা অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল।

এ প্রসঙ্গে বিশ্লেষক টিম বাকলে বলেন, অত্যন্ত ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে সৌরবিদ্যুতের প্রতি ভারতের এ আগ্রহ বৈশ্বিক জ্বালানি খাতেই গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

‘ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)’-এর ওয়েবসাইটে টিম বাকলের প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, ভারত ১৩ দশমিক ৭ গিগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার পরিকল্পিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এ মাসে বাতিল করে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মেনে পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে ফিনল্যান্ডের কোম্পানি ফোর্টাম রাজস্থানে ওই বিদ্যুৎ প্রকল্প উৎপাদনের কাজ করতে সম্মত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড পরিমাণ স্বল্প মাশুলে বা গ্যারান্টেড প্রাইসে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিশ্চয়তা দেয়। তাতে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য দাম ধরে ৪ দশমিক ৩৪ রুপি।

আইইইএফএর এনার্জি ফাইন্যান্স স্টাডিজের পরিচালক টিম বাকলে বলেন, ওই সময় বিশ্লেষকেরা দাবি করেছিলেন, এই খরচ এত কম যে এর চেয়ে সুলভ মূল্যে কখনো বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে না। কিন্তু ১৬ মাস পরই ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতি কিলোওয়াটের জন্য নিলামে দাম ওঠে মাত্র ২ দশমিক ৪৪ রুপি।

বাকলে বলেন, ‘এই প্রথম দেখা গেল ভারতে কয়লার পরিবর্তে সৌরশক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনই বেশি সাশ্রয়ী। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে এ ফলাফলের প্রভাব পড়বে সুদূরপ্রসারী। তিনি আরও বলেন, ভারতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ আক্ষরিক অর্থেই কমছে। এটা বিবেচনায় নিলে বলতে হয়, গুজরাটে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ৯০ লাখ রুপির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প টিকিয়ে রাখা যৌক্তিক নয়। কেননা, দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তিতে যে কয়লা আমদানি করা হচ্ছে, তুলনামূলকভাবে তাতে খরচ বেশি পড়ছে।

খবরে বলা হয়, ভারতের বিকাশমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে সারা বিশ্ব থেকে বিনিয়োগকারীরা এখন আগ্রহ দেখাচ্ছেন। 

 

Source: prothom alo