বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র উদ্যোগের গত  ১৯ নভেম্বর ২০১৬, শনিবার, সকাল ১১.০০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে “পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানী” শীর্ষক আইইফা-র (Institute for Energy Economics and Financial Analysis) প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপা’র সহ সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ। এতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), প্রকৌশলী বিডি রহমতুল্লাহ (অধ্যাপক, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি), অধ্যাপক বদরুল আলম (, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক মোঃ সাইফুল হক ( সৌর জ্বালানী অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং স্কাইপি’র মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন ও প্রশ্নোত্তরের জবাব দেন টিম বাকলি (পরিচালক, ফিনেন্স এনার্জি ষ্টাডিজ, আইইফা, অস্ট্রেলিয়া)। আইইফার এনার্জি ফিনেন্স স্টাডিজ এর পরিচালক-টিম বাকলি, এনার্জি ফিনেন্স এনালিস্ট-সিমোন নিকোলাস, এনার্জি ফিনেন্স এনালিস্ট সারা জানি আহমেদ এর নেতৃত্বে প্রনীত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বাপা’র যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল।

 

মূল প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ তুলে ধরে শরীফ জামিল বলেন, আইইফা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টর নিয়ে পর্যবেক্ষন করে দেখেছেন যে, বাংলাদেশের নবায়ণযোগ্য জ্বালানী অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি হিসেব মতে গত ৫ বছরে ৩০০০ কোটি টাকার বেশী ভুর্তুকি দিতে হয়েছে জ্বালানী খাতে শুধুমাত্র আমদানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারনে। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে, বাংলাদেশে নিরবে সোলার বিপ্লব শুরু হয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নবায়নযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ভারত, দুবাই, মেক্সিকো, চিলি, ব্রাজিল, অস্টেলিয়া ও মরোক্কসহ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বড় বড় সোলার নির্ভর প্রকল্প চালু হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন চিন্তা করতে হলে সৌর জ্বালানীর উপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে ।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আমরা পরিবেশবান্ধব জ্বালানী চাই। দেশ ও জনগনের স্বার্থে কাজ করতে হবে। আমরা আশা করি বিদ্যুৎখাত উন্নয়নের নামে সরকার কোন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেবে না। সম্ভাবনাময় জ্বালানীখাতের উপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, তেল গ্যাস কোম্পানীর সাথে যুদ্ধ করে সোলার কোম্পানীকে টিকে থাকতে হচ্ছে। ঢাকা শহর বর্জ্যের শহর, এই বর্জ্যগুলোকে ব্যবহার করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। আমাদের হাতের অনেক সুযোগ গুলোকে বোঝা হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশে যা আছে অন্য দেশে তা নেই, অথচ আমরা সম্ভাবনাগুলোকে কাজে না লাগিয়ে সুন্দরবন বিনাশী ক্ষতিকর প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি।

বদরুল ইমাম বলেন, তেল, গ্যাস ,কয়লা থেকে তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কম। সরকার এলএনজি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে যে পরিমান খরচ করছে, সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তা করছে না। যার কারণে প্রতি বছর বিদ্যুৎ খরচ বাড়ছে । যার ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে না, পাবে উচ্চ বিলাশী লোকেরা । ফলে দেশের জন্য অর্থনৈতিক সমস্যাও প্রকট হয়ে দাঁড়াবে।

অধ্যাপক মোঃ সাইফুল হক বলেন, বর্তমান যুগের অনেক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মনুষ্য বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। মনুষ্য বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকারের কাছে তহবিল চাইলে, শুধু বলে কোন ফান্ড নেই। গ্রীন ফান্ডের অভাবে আমাদের বর্জ্যগুলোকে কাজে লাগাতে পারছি না। উল্টো পরিবেশ নষ্ট করছি। তিনি সরকারের কাছে দাবী জানান, বছরের কোন একটি দিনকে সোলার দিবস হিসেবে ঘোষনা করার জন্য।