‘কোনো যুক্তি না থাকা সত্ত্বেও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে একগুঁয়েমির পাশাপাশি সরকার আমাদের যুক্তি-তর্ক আলোচনা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করতে চাইছে সরকার। সুন্দরবনের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি এটি রক্ষার আন্দোলনে জয়ী হওয়ারও বিকল্প নেই।’

তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জাতীয় কমিটির ২৪ নভেম্বর ‘চলো চলো ঢাকায় চলো এবং ২৬ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ’ সামনে রেখে এই বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়। খুলনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এই সভায় খুলনার বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

ইউনেসকোর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রামপাল নিয়ে আন্দোলনকারীদের সাক্ষাৎ করতে না দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ইউনেসকোর দলটিকে সরকার এমনভাবে ব্যস্ত রেখেছিল, যাতে তারা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে না পারে। তাদের রামপালে নিয়ে গিয়ে আগে থেকে সাজানো কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছে। কিছু আজ্ঞাবহ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সরকার কথা বলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইউনেসকোর দলটি তাদের প্রতিবেদনে সুন্দরবনের জন্য রামপাল ক্ষতির কারণ হবে বলে মন্তব্য করেছে।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ইউনেসকো আর আমাদের বক্তব্য একই। সত্য ও বিজ্ঞাননির্ভর বিশ্লেষণ যেভাবেই যে দেশেই করা হোক না কেন, তা এক হবেই। পৃথিবীতে স্বাধীন কোনো বিশেষজ্ঞ নেই, যাঁরা আমাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন।’

আন্দোলনে বিভিন্ন বাধা প্রসঙ্গে অর্থনীতির এই অধ্যাপক বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে রামপাল নিয়ে আন্দোলনে আমাদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। সরকার একগুঁয়েমি করছে। যতই এগুলো করছে, ততই আন্দোলন চাঙা হচ্ছে। ২৪ নভেম্বর ঢাকায় লংমার্চ অর্থাৎ চল চল ঢাকায় চল এবং মহাসমাবেশ সফল করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তি হচ্ছে তথ্য ও যুক্তিনির্ভর। জীববৈচিত্র্য এবং সুন্দরবন এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্যই সুন্দরবনকে আমাদের বাঁচাতে হবে। এটা আমাদের দেশের মানুষের অস্তিত্বের লড়াই। এই বন রক্ষায় ও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধে জাতীয় জাগরণ তৈরি করতে হবে। নিজেদের কাছে দায় থেকে, সমাজের কাছে দায়, সুন্দরবনের কাছে দায়, বাংলাদেশের কাছে, মুক্তিযুদ্ধের কাছে দায় থেকে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আর খুলনা বিভাগ এই আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকবে।’

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, সরকার পরিবেশ রক্ষার জন্য নানা কথা বলে কিন্তু এখনো ঢাকার বুড়িগঙ্গা রক্ষা করতে পারেনি। এখন নাকি পাঁচ লাখ গাছ লাগিয়ে সুন্দরবন রক্ষা করবে। কিন্তু সামাজিক বনায়ন আর সুন্দরবন এক রকম বিষয় নয়।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ইউনেসকো বলছে, রামসার বলছে, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ বলছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হোক। তাই একগুঁয়েমি না করে, সময় নষ্ট না করে এই প্রকল্প বাতিল করা হোক। সরকার যত দেরি করবে, তত ক্ষতি হবে বাংলাদেশের, ক্ষতি হবে সুন্দরবনের, ক্ষতি হবে সরকারেরও।’

জাতীয় কমিটির খুলনার আহ্বায়ক মনোজ দাশের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন কমিটির খুলনার সদস্যসচিব দেলোয়ার উদ্দিন, বাগেরহাটের আহ্বায়ক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যশোরের আহ্বায়ক আবুল হোসেন, কুষ্টিয়ার সদস্যসচিব শফিউর রহমান, ঝিনাইদহের সদস্যসচিব আসাদুর ইসলাম প্রমুখ।

 

source: the daily Prothom alo