সুন্দরবন রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশকে রক্ষা করার কোনো উপায় নেই বলে ঐতিহাসিক মন্তব্য করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবেও তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। শুধু তাই নয় জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়েও দেশবাসীকে সতর্ক করেন সাবেক এই মহান নেতা। 

 

সম্প্রতি  সুন্দরবন রক্ষা করতে রামপাল তাপবিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধের যে আন্দোলন চলছে এর মাঝখানেই বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক বক্তব্যের একটি ওয়েভ লিংক সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সারা জুগিয়েছে। যতটা আন্দোলনের প্রভাব সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে তারচেয়ে বেশি সরকারের অভ্যন্তরে নৈতিক চাপ তৈরী করেছে এই বক্তব্য। কারণ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়াই যদি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য হয়ে থাকে । তাহলে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক বক্তব্যকে কিভাবে দলটি অবজ্ঞা করতে পারে এটি এখন বড় প্রশ্ন হিসেবে দাড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুর এ বক্তব্যে তিনি উপকূলে বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি বেশি করে নারকেল গাছ লাগাবারও আহ্বান জানিয়েছেন। 

বঙ্গবন্ধুর রাখা ঐতিহাসিক বক্তব্যের অংশ বিশেষ পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:

 `আমরা গাছ লাগাইয়া সুন্দরবন পয়দা করি নাই। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতি এটাকে করে দিয়েছে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য।
বঙ্গোপসাগরের পাশে দিয়ে যে সুন্দরবনটা রয়েছে এইটা হলো বেরিয়ার। এটা যদি রক্ষা করা না হয় তাহলে একদিন খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লার কিছু অংশ, ঢাকার কিছু অংশ এ পর্যন্ত সমস্ত এরিয়া সমুদ্রের মধ্যে চলে যাবে এবং এগুলো হাতিয়া, সন্দ্বীপের মতো আইল্যান্ড হয়ে যাবে। একবার যদি সুন্দরবন শেষ হয়ে যায়—তো সমুদ্র যে ভাঙন সৃষ্টি করবে সেই ভাঙন থেকে রক্ষা করার কোনও উপায় আর নাই।'

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনটি শুনবার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন