সুন্দরবনের অদূরে রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে এবার সোচ্চার হয়েছেন দেশের তারকা শিল্পীরা। নিজেদের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে তাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সেই সব কথা। সঙ্গীত লিল্পী আনুশেহ আনাদেল লিখেছেনঃ

 ‘দেহ মনে আঘাত তবু উঠে দাঁড়াই সুরে, 
গাছে গাছে প্রাণে প্রাণে লড়াই আসে ঘুরে’

সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ ঠেকাতে দেশজুড়েই চলছে আন্দোলন। পুলিশি বাধার মুখে চলছে রাজপথে আন্দোলন। আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালি প্ল্যার্টফর্ম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারাও সামিল হয়েছে ভার্চুয়াল আন্দোলনে। সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবন ইস্যুতে শিল্পকলায় আয়োজিত ‘বাহাস’ চিঠি দিয়ে খারিজ করার ফলে নাটকপাড়ায় চলছে সমালোচনার ঝড়। নানা বাধার মুখেও আন্দোলনের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করছেন তারকারা। ফেসবুকে ‘সেভ সুন্দরবন’ হ্যাশটাগে পাশে দাড়াচ্ছেন সুন্দরবনের। কেউ কেউ প্রিয় সুন্দরবনকে বাঁচাতে নেমে পরেছেন রাজপথে। গান কবিতায়ও সরব প্রতিবাদ চলছে। 

 

নাট্যকার মোস্তফা সারোয়ার ফারুকি একটি রয়েল বেঙ্গল ট্রাইগারের ছবি সম্বলিত পোষ্টার উপস্থাপন করে লিখেছেন: “Locations of thermal power stations are avoided within 25 km of the outer periphery of the following: […] Ecologically sensitive areas like tropical forest”. Yet, the proposed Rampal plant site is 14 kilometers away from the Sundarbans forest. No company would be allowed to implement this project in India, much less finance it."

অপি করিম লিখেছেন: মাননীয় সরকার, আমি - সৈয়দা তুহিন আরা করিম (অপি করিম) বাংলাদেশের নাগরিক - রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যু্ৎ কেন্দ্র স্থাপনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই প্রতিবাদ আমলে নিন।

কাজী নওশোভা আহম্মেদ লিখেছেনঃ  বেঁচে থাকুক সুন্দরবন,  বেঁচে থাকুক সুন্দর মন।

শ্রাবনী ফেরদৌসি লিখেছেনঃ I am Sraboni Ferdous
জন্মসূত্রে বাংলাদেশের একজন ‪#‎নাগরিক এবং
সংবিধানের ৭ এর (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের ‪#‎মালিক
আমি রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের তীব্র ‪#‎প্রতিবাদ জানাচ্ছি ।
বিদ্যুৎ আমিও চাই কিন্তু ‪#‎সুন্দরবন ধ্বংস করে আমার বিদ্যুৎ এর দরকার নাই। দয়া করে আপনিও আমার এ প্রতিবাদ আমলে নিন।
বি:দ্র: আমরা এখনো সংখ্যায় অনেক কম । ২০০০ জনও যদি লেখে তাহলেই চিন্তাকরুন আমরা একা নই আরও ২০০০ জন। এভাবে এত মানুষের মত আমলে না নিতেও সরকার কে ভাবতে হবে।

নাফিসা চৌধুরী নাফা, আমব্রিনা সাজরিন আমব্রিন , শবনম ফারিয়া একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ফেইসবুকে।

আশফাক নিপুন লিখেছেনঃ সংবিধান এর অমুক তমুক অনুচ্ছেদ এর আলাপ দিয়া লাভ নাই। নিজেরে দেশের মালিক দাবী কইরাও লাভ নাই। দেশের মালিক আমি আপনি না। দেশের দশের মালিক একজনই। আপনারে আমারে খালি বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচের সময় মালিকানা ধার দেয়া হয় কয়েক ঘন্টার জন্যে যেন আমরা একটু সুখটান দিতে পারি!

আপনি কে? কোন মহারথি হইছেন যে আপনারে উনার গুনতে হবে? আপনি কি মনে করেন গুলশান হামলায় বিদেশী না মইরা আমি আপনি স্বদেশী লোকজন মরলে কোন দাম পাইতেন? দুই পয়সার দামও পাইতেন না। এত তোড়জোর হাঁকডাক শুধু জাপানী আর ইটালিয়ান মরছে আর সেটা দেইখা বাকি দেশগুলা সরকাররে চাইপা ধরছে দেইখা। আবার নিজেরে দেশের মালিকও দাবী করেন আপনারা!!

বিদেশী হোন। উনারা বিদেশীদের কথা শুনেন। বিদেশীদের প্রেসকিপশন অনুযায়ী সুন্দরবন, টেংরাটিলা, রুপপুর, বাঁশখালি, গুলশান, বনানী, ধানমণ্ডি, উত্তরা নিয়মিত টেষ্ট করান। শেয়ার বাজার, বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিদেশীদের টাকা ডাকাতি হইলে কি হইত বুঝতেছেন? এত এত রেষ্টুরেন্ট উচ্ছেদ হইলে যদি বিদেশী বেকার হইত তাহলে কি হইত বুঝতেছেন? আপনের মিয়া সবুজ পাসপোর্ট। দেশে সবুজের কোন নাম নিশানা রাখা হইতেছে না আর আপনে আপনার পাসপোর্টের সবুজ নিয়া ফাল পাড়তেছেন!

লাইনে আসেন। বিদেশী হোন। বাংলাদেশ আপনার গ্যারান্টিড (বিএসটিআই এর সিল সহ)!

 

প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে আনুশেহ আনাদেল শ্রোতাদের জন্য একটি গান শেয়ার করেছেন। গানটি দেখতে ক্লিক করুণ