সুন্দরবনের অদূরে জীব বৈচিত্র বিধ্বংসী রামপাল তাপ বিদুৎ কেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ করতে ভারত-বাংলাদেশের পরিবেশবাদীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে বলে মত দিয়েছেন দেশ দু’টির পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা। ভারত যেখানে তাদের নিজ দেশে এধরণের প্রকল্প থেকে সরে এসেছে সে যায়গায় ভারতের অর্থায়নে সুন্দরবনের অদূরে এধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে না বলেও মনে করেন তারা। প্রকল্পটি ভারত-বাংলাদেশের মৈত্রী প্রকল্প হলেও এখানে দু’দেশের মৈত্রীর কোন লক্ষণ নেই। বক্তারা আরো বলেন, ভারত-বাংলাদেশ আর নেপালের স্বার্থ বিবেচনা করেই সম্মিলিত উদ্যোগে এই অঞ্চলের পানি সমস্যার সমাধান করা উচিৎ। আর এসব স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ করাও জরুরী। রোববার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজায় বাংলাদেশ এনভায়নমেন্ট নেটওয়ার্ক -বেন নিউ ইয়র্ক  চাপ্টার কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব মতামত ব্যক্ত করেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. নজরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ভারতের ন্যাশনাল এলায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্ট-এর আহ্বায়ক মধুরেশ কুমার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন -বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল।

আলোচনা পর্বের আগে ড. নজরুল ইসলাম বেন এর কর্মকান্ড তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে স্ব স্ব অস্থান থেকে প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এরপর বাপা ও বেন কর্তৃক প্রকাশিত ‘পরিবেশ নীতি ও আইনসমূহের বাস্তবায়ন সমস্যা’ শীর্র্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিষয়ক স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি-সংবাদিক সালেম সুলেরী।  সভা পরিচালনা করেন বেন -এর সমন্বয়ক সৈয়দ ফজলুর রহমান।
নিউ ইয়র্কে বেন আয়োজিত আলোচনা বক্তব্য রাখছেন ভারতের ন্যাশনাল এলায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্ট-এর আহ্বায়ক মধুরেশ কুমারমধুরেশ কুমার বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে ভারত কথা বলছে না। ভারতের নদী শাসনের জন্য শুধু বাংলাদেশ নয়, নেপালও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ভারত-বাংলাদেশ-এর মৈত্রী প্রকল্প হলেও এখানে কোন ফ্রেন্ডশীপ নেই।  ভারত যেখানে নিজেই এ ধরণের প্রকল্প থেকে সরে এসেছে সেখানে তাদেরই অর্থায়নে এধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন স্ববিরোধী কাজ। এই প্রকল্পের জন্য অর্থ দিচ্ছে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক। যে প্রক্রিয়ার এক্সিম ব্যাংক অর্থসহায়তা দিতে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে ভারতের পরিবেশবাদীরা কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, আমরা ভারত-বাংলাদেশসহ অত্র অঞ্চলের সকল মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশ চাই। তিনি বলেন, আন্দোলনের ফলে বিগত ৬ বছরেও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প এগুতে পারছে না। এই সাফল্যও কম না। তিনি আরো  বলেন,  এতদ অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় সুন্দরবন রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর দুই দেশের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই পারে এটি রক্ষা করতে।
আলোচনা সভায় শরীফ জামীল বাংলাদেশের পরিবশে রক্ষার আন্দোলনে বাপা-বেন’র ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি অ্যালায়েন্সের সাথে বাপা ও বেন কাজ করে চলেছে। সেই সাথে বরাল নদী রক্ষার আন্দোলন, আর্সেনিক সমস্যা প্রভৃতি বিষয়েও বাপা-বেন কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা যা করার তাই করবো। তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ আন্দোলন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি দেশের মন্ত্রনালয়গুলোর আইনের সাথে আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থা। পরিবেশর রক্ষায় দেশীয় রিসোর্স প্রটেক্ট করার ক্ষমতা সরকারের নেই।
শরীফ জামিল বলেন, আমরা সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার জন্য নয়, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য সুন্দরবনের দরকার বলেই আন্দোলন করছি। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার সরকার সুন্দরবন ধ্বংস করতে চায়। তিনি এই প্রকল্প বাতিলের জোর দাবী জানিয়ে বলেন, দেশ-প্রবাসের সকল বাংলাদেশী নাগরিককে স্ব স্ব অবস্থান থেকেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।  আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত থাকেন নি।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানের পুরষ্কারপ্রাপ্ত মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন অসিম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, লেখক-সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।