তেল- গ্যাস- খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বল প্রয়োগ, জনগণকে উন্নয়নের মিথ্যা তথ্য দিয়ে, মিডিয়াকে ভয় দেখিয়ে সরকার সুন্দরবনবিনাশী রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে জেনে শুনে জনগণের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি অরক্ষিত অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে তারা। ব্যাপক জনমতকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকজন মুনাফালোভীর ফাঁদে পড়ে সরকার সুন্দরবন ধ্বংসে নেমেছে। সুন্দরবন মানে একটি অসাধারণ জীববৈচিত্রের আধার, প্রাকৃতিক বাধ।

 

জাতীয় কমিটির ডাকে আজ সুন্দরবন অভিমুখী জনযাত্রার আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, প্রাণবৈচিত্রের অসাধারণ আধার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচাইতে শক্তিশালী প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম সুন্দরবন আছে বলে প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচে। সুন্দরবন বিনষ্ট হওয়া মানে বহু লক্ষ মানুষের জীবিকা হারানো, উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষকে মৃত্যু ও ধ্বংসের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া।

তিনি বলেন, একদিকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে এই অনবায়নযোগ্য বিশাল আশ্রয় সুন্দরবন হত্যার আয়োজন চলছে, অন্যদিকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সামনে রেখে দেশের ভূমিদস্যুদের নানারকম প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের সর্বজনের সম্পদ নিয়ে যথেচ্ছাচার ও ছিনিমিনি খেলার অধিকার সরকারের নেই। তিনি জনগণকে গণজাগরণের মাধ্যমে জনগণের এধরণের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মাছে নামার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ জাতীয় কমিটির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আজিজুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, বহ্নী শিখা জামালী, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।