রুপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টটি চালু হলে প্রতি ১৮ মাস পর পর মেইনটেনেন্স ও রিফুয়েলিং এর জন্য ৩ মাসের জন্য শাটডাউন করতে হবে।এর জন্য প্রতিবার খরচ হবে ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রটি যতদিন চলবে, প্রতিবছর অপারেটিং কস্ট পড়বে ৫০ মিলিয়ন ডলার করে।
চুক্তি অনুযায়ী কনস্ট্রাকশন খরচ ১২.৬৫ বিলিয়ন বলা হলেও এর খরচ আরো বাড়বে। চুক্তির মডেলটি ‘কস্ট প্লাস’ অর্থাৎ রাশিয়া সময়ে সময়ে খরচ বাড়িয়ে নিতে পারবে।


এর সাথে যুক্ত হবে ঋণের সুদ। ডিকমিশনিং এর খরচ নির্মাণ খরচের প্রায় কাছাকাছি পড়ে।...
সবমিলিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে কমপক্ষে ৮.৫০ টাকা।
এই হিসাব আমার না, ব্রিটিশ নিউক্লিয়ার ইনস্টিটিউটের ফেলো ও ইউরোপে ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নিউক্লিয়ার সাইনটিস্ট এ.রহমান এর । রোববার ডেইলিস্টারে প্রকাশিত Ruppur Nuclear Power Plant: Bangladesh’s Potential Blackhole লেখায় তিনি এই কথাগুলো বলেছেন।
সবকিছু ঠিকঠাক চলবে ধরে নিয়ে তিনি এই হিসেব করে বলেছেন, যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে, প্ল্যান্ট কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, মেরামতের প্রয়োজন হয় তাহলে খরচ আরো বহুগুন বাড়বে।
ছোট আকারের একটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করে অভিজ্ঞতা অর্জনের বদলে একসাথে দুইটি বড় আকারের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বসানোর ঘটনাকে তিনি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক, কারিগরী ও নিরাপত্তাগত ঝুকি হিসেবে দেখেছেন।
তিনি লিখেছেন, প্রযুক্তিগত ভাবে এগিয়ে থাকা স্বত্ত্বেও জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইতালির মতো দেশগুলো যখন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ করে নবায়ণযোগ্য শক্তির দিকে ঝুকছে, তখন বাংলাদেশ ভাবছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বসিয়ে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
তিনি তাই লিখেছেন- This nuclear plant would possibly be the first in the world to be built primarily for the image rather than for the generation of power!
অর্থাৎ রুপপুরই বোধ হয় দুনিয়ার প্রথম নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে যা আসলে বিদ্যুতের জন্য নয়, মূলত ভাবমূর্তির জন্য নির্মাণ করা হবে!