বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সরকার গত ১০ বছরে বহু মানুষকে হত্যা করেছে ক্রস ফায়ারে। এখন সুন্দরবনকেও ক্রস ফায়ারে হত্যা করতে চায় সরকার।তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে ‘সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় কনভেনশন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদ একথা বলেন।সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে সরকার শুধু আত্মঘাতি নয়; রাষ্ট্র ও জাতিঘাতি কাজ করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই ধরনের পরিবেশবিরোধী একটি প্রকল্প সরকার অনেক ধীরে সুস্থেই নিতে পারে। কিন্তু তারা এ প্রকল্প নিজেদের স্বার্থেই তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন করতে চায় । তিনি বলেন, সরকার এধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে জনগণ এর প্রতিরোধে কঠোর ভুমিকা নেবে। সরকারকে জনগণ রাষ্ট্রদ্রোহী বলে চিহ্নিত করবে।

 

কনভেনশনে জাতীয় কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আমরা উন্নয়ন বিরোধী নই। আমরা চাই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবন নয়, অন্য স্থানে নির্মিত হউক। আগামী ১৯ নভেম্বর রামপাল এলাকা পরিদর্শনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের আমন্ত্রণ গ্রহণের আগে কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি পাল্টা প্রতিমন্ত্রীকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে তাদের সাথে সংলাপে বসতে আমন্ত্রণ জানান ওই কনভেনশন থেকে।
শর্তের মধ্যে রয়েছে- দেশ ও বিদেশের বিশেষজ্ঞ, ইউনেস্কোসহ আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও পরিবেশবাদীদের অকাট্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থগিত করতে হবে। সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর সব তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। মিথ্যা প্রচার, ভুল তথ্য এবং সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও দমনপীড়ন বন্ধ করতে হবে। আর এসব ব্যবস্থা সর্ম্পকে সুনিদিষ্ট ঘোষণায় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছা প্রকাশ পেলে মন্ত্রীর আমন্ত্রণে ওই সফরে যাবেন বলে জানান জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ।

কনভেনশনের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় কমিটির আহবায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, নুর মোহাম্মদ, অধ্যাপক এম এম আকাশ, রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ বক্তব্য দেন।

জাতীয় কনভেনশনে সুন্দরবন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধি, জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ অংশ নিচ্ছেন।

 

সূত্র:নয়াদিগন্ত