রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার রোডমার্চ শনিবার দ্বিতীয় দিনেও পুলিশের লাঠিপেটা ও বাধার মুখে পড়ে। এর মধ্যে মাগুরায় লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, যশোর ও ঝিনাইদহে পুলিশ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়।
গত শুক্রবার ঢাকা থেকে সুন্দরবন অভিমুখে বাম মোর্চার এই রোডমার্চ শুরু হয়। প্রথম দিনে মানিকগঞ্জে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন ১০ জন।


ঢাকার বাইরে থেকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
গতকাল সকাল নয়টার দিকে বাম মোর্চার রোডমার্চে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে মিছিল বের করে। মিছিল পৌরসভার সামনে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এরপর রোডমার্চ সাড়ে নয়টার দিকে মাগুরা শহরের দিকে রওনা হয়।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাম মোর্চার রোডমার্চে অংশ নেওয়া শ পাঁচেক কর্মী মাগুরা শহরের ঢাকা রোডে পৌঁছান। মাগুরা পৌরসভার সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাধা পেয়ে রোডমার্চের মিছিল ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ধরে ভায়না মোড়ের দিকে এগোতে থাকে। সেখানে লাঠিপেটা করে পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিদের মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রোডমার্চ দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহের দিকে রওনা হয়।
রোডমার্চের কর্মসূচিতে পুলিশের লঠিপেটার তীব্র নিন্দা জানান বাম মোর্চার নেতারা। মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাগুরাসহ পথে পথে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মাগুরায় পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী।’
তবে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সী প্রথম আলোকে বলেন, ওই মিছিলের কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল। তাই পুলিশ মিছিল করতে বাধা দেয়। তবে লাঠিপেটা করা হয়নি।
মাগুরা থেকে রোডমার্চ ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে রোডমার্চ ঝিনাইদহ শহরে ঢুকতে পারেনি। ঝিনাইদহ পৌর টার্মিনালে পৌঁছার পর পুলিশ তাদের যশোরের দিকে পাঠিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ বলেন, শহরের যানজট এড়াতে তাদেরকে নিরাপদে যশোরের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শহরে তাদের কোনো কর্মসূচি ছিল না।
রোডমার্চ দুপুরে যশোর শহরে পৌঁছে আবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। তাদেরকে যশোরে কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি।
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, পুলিশ রোডমার্চে কোনো বাধা দেয়নি। তাদের অনুমতি ছিল না। যতটুকু করা হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
এদিকে বাম মোর্চার রোডমার্চে পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানান কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
এ ছাড়া ‘নাগরিক ঐক্য’ও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাম মোর্চার রোডমার্চে পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সিপিবি-বাসদের অভিযাত্রা শেষ: গতকাল দুপুরে বাগেরহাটের পুরাতন কোর্ট চত্বরে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ‘সুন্দরবন রক্ষা অভিযাত্রা’ শেষ হয়েছে। সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনবিধ্বংসী সব প্রকল্প বাতিল এবং প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশরক্ষার দাবিতে এই অভিযাত্রার আয়োজন করা হয়।
১৩ অক্টোবর বিকেলে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশের মধ্য দিয়ে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল। অভিযাত্রার অংশ হিসেবে দুটি দল গত পাঁচ দিনে মানিকগঞ্জ, গোয়ালন্দ, ফরিদপুর, মধুখালী, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, দৌলতপুর ও খুলনা হয়ে গতকাল বাগেরহাটে পৌঁছায়। সেখানে সমাবেশে সিপিবির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই, তবে তা সুন্দরবনের কাছাকাছি নয়। সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক তাপবিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন বিরান ভূমিতে পরিণত হবে।’
সিপিবির কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য কাজী সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

 

সূত্র: প্রথম আলো