দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে তৃতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ইউনিটটি চালু হলে সেখান থেকে আসবে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

নতুন ইউনিটটি ২০১৮ সালের জুনে উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন এ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ৫২৫ মেগাওয়াটে।

বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এখানে রয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এ দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার।

 

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন মাস আগেই ইউনিটটি উৎপাদনে যাবে। এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বছরে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে। এর জোগান দেবে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি।

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় গতকাল সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মূল ভবনের (বয়লার ও মেশিন ভবন) উত্তর পাশে নতুন ইউনিটটির নির্মাণকাজ চলছে। এর পাইলিংয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। দুই শতাধিক শ্রমিক এখন এর নির্মাণকাজে ব্যস্ত।

বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, দরপত্রদাতার ঋণের (বায়ারস ক্রেডিট) আওতায় ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চীনা জয়েন্ট ভেঞ্চার হারবিন ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল ও সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কাজটি পায়। পিডিবির টেন্ডার কমিটি গত ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর দরপত্রটি গ্রহণের সুপারিশ করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠায়। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। তবে দরপত্রের চুক্তিটি কার্যকর হয় চলতি বছরের ১৫ জুলাই। আর আগস্ট থেকে প্রকল্প এলাকায় পাইলিং কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

কর্মকর্তারা বলেন, চুক্তি কার্যকরের দিন থেকে ওই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ধরা হবে। বাস্তবায়িত হবে তিন বছরে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী সারথ চন্দ্র ভাদুরী বলেন, তৃতীয় ইউনিটটি হবে অত্যাধুনিক। এতে দুই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে গ্যাস টারবাইন ও বয়লার সংযোজন করা হচ্ছে। ফলে কয়লা বা গ্যাস যেকোনো জ্বালানি দিয়েই কেন্দ্রটি সচল রাখা যাবে।

 

 

সূত্র: প্রথম আলো