দায় মুক্তির বিধান দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানি গঠন ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিধান করে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিল-২০১৫ পাস করা হয়েছে।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।

 গত ৬ সেপ্টেম্বর বিলের ওপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়।

বিলে আইনের প্রাধান্য ও প্রয়োগ, কোম্পানি গঠন ও নিয়মিতকরণ, অনুমোদিত মূলধন, কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ও কার্যাবলী, কোম্পানি পরিচালনা, বোর্ড গঠন, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালক, নিয়োগ ও কার্যাবলী, যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং অপসারণ, জনবল কাঠামো, হিসাব ও নিরীক্ষা, প্রতিবেদন, পরিচালনা কার্যক্রম, মাসিক সাধারণ সভা, সংরক্ষিত তহবিল, ভূমি অধিগ্রহণ, বিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।

" বিলে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী গঠন ও নিয়মিতকরণ করার বিধান করা হয়। কোম্পানী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালন সংস্থা হিসাবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।

বিলে বাংলাদেশ এটমিক এনার্জি কমিশন রাশিয়ান ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তি এবং সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ি মালিক সংস্থা হিসাবে দায়িত্ব পালনের বিধান করা হয়। তবে শর্ত থাকে কমিশন এর সকল বা যে কোন দায়িত্ব প্রয়োজনবোধে অর্পণ করতে পারবে।

বিলে কোম্পানীর কার্যক্রম এবং ব্যবসা পরিচালনা ও সাধারণ তত্ত্বাবধানের জন্য অন্যূন ৭ ও অনধিক ১২ জন পরিচালকের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠনের বিধান করা হয়। বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান ও একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাখার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া বিলে দায় মুক্তির বিধানও করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, রওশন আরা মান্নান ও স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিম জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।