কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী ও দেশধ্বংসী সকল চুক্তি বাতিল এবং বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলাচিঠি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি বিভিন্ন সময় বলেছেন,সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনো ক্ষতি করবে না। আমরা আপনার অবগতির জন্য দেশ বিদেশের অভিজ্ঞতা এবং দেশে বিভিন্ন গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সারসংক্ষেপ নীচে পেশ করছি:
(১) কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বছরে ৪৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা পুড়িয়ে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ উৎপাদিত হবে। এই ফ্লাই অ্যাশ, বটম অ্যাশ, তরল ঘনীভূত ছাই বা স্লারি ইত্যাদি ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করে কারণ এতে আর্সেনিক ও বিভিন্ন ভারী ধাতু যেমন পারদ, সীসা, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, বেরিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, রেডিয়াম মিশে থাকে।এর ফলে সুন্দরবনের পশুপাখি বৃক্ষ লতাপাতাসহ অসংখ্য প্রাণ এবং ইকো সিস্টেম ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।

Read more: সুন্দরবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামোগত নির্মাণ চুক্তি বাতিল ও সুন্দরবন রক্ষায় বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের আহবান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১২ জুলাই বাগেরহাট জেলার রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তাতে বাংলাদেশের জনগণ বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকার ভুক্তভোগী জনগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

Read more: এবার রামপাল বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে মূখ খুলল জামায়াত

বিরোধিতা স্বত্ত্বেও রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ভারতের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করল সরকার।  বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থারমাল পাওয়ার প্রজেক্ট বাস্তবায়নে মূল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) এবং ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেডের (বিএইচইএল) মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট কনস্ট্রাকশন-ইপিসি (টার্নকি) চুক্তি সই হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Read more: বিরোধিতা স্বত্ত্বেও রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ভারতের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করল সরকার

দেশের পরিবেশ ও বন রক্ষার ইতিহাসে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তির দিনটি, অর্থাৎ ১২ জুলাইকে কালো দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি। ৫৩টি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির পক্ষ থেকে রামপাল চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল। বক্তারা বলেন, এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারত লাভবান হবে। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে বিপর্যয় ঘটবে বাংলাদেশের।
সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, রামপাল চুক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করা বর্তমান সরকার কীভাবে এই চুক্তি করল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের চরম উদ্বেগ প্রকাশের পরও সুন্দরবনের পরিবেশকে হুমকির মধ্যে রেখে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Read more: ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি করায় পরিবেশবাদীদের তীব্র ক্ষোভ

রাঙামাটি সদর উপজেলার শুকুরছড়ি এলাকায় বাস্তবায়নাধীন ১৩০/১৩২ কেভি (গ্রীড সাব) বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক হিসেবে সংক্ষুব্ধ হয়ে আদালতে মামলা করেছেন নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট শক্তিমান চাকমা। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন ভূমি থাকার পরও অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকানা থেকে বাদ পড়ায় এই প্রকল্পের কাজ স্থগিত করার আদেশ চেয়ে রাঙামাটি যুগ্ম জেলা জজ আদালতে তার পক্ষে মামলাটি রুজু করেন রাঙামাটি আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু।

Read more: রাঙামাটির শুক্করছড়িতে বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ স্থগিত চেয়ে এবার আদালতে মামলা