রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি করবে না এবং সরকার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ বলছেন ধ্বংস হয়ে যাবে সব। তাঁদের উদ্দেশ্যটা কী, সেটাই আমার প্রশ্ন? উদ্দেশ্য যদি হয় বাংলাদেশের উন্নয়নটা বাধাগ্রস্ত করা, তাহলে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ সমালোচকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কিছু আসে যায় না। বেশি কথা বললে সব (বিদ্যুৎ প্রকল্প) বন্ধ করে দিলে আর বিদ্যুৎ পাবে না।’

Read more: রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবেই, সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে নাঃ শেখ হাসিনা

বিএনপি চেয়ারপার্সণ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সুন্দবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন একটি দেশবিরোধী ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। জনমত উপেক্ষা করে দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্ত জনগণের উপর জবরদস্তিমূলকভাবে চাপিয়ে দিচ্ছে এই স্বৈরাচারী সরকার। প্রকল্পটি অন্য স্থানে সরাতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জায়গারও অনেক বিকল্প আছে। কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। কাজেই সুন্দরবনকে নিশ্চিত ধবংসের মুখে ঠেলে দেয়ার হঠকারী, অযৌক্তিক, অলাভজনক রামপালের সকল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসাথে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপার্সন। গতকাল বুধবার বিকেলে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

Read more: রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন দেশ ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত -খালেদা জিয়া

শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সুন্দরবন রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল। আর এ জন্য রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রামপালে কী হচ্ছে? উন্নয়ন, পরিবেশ ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন’ শীর্ষক প্রশ্নোত্তর ও আলোচনা সভায় সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র আয়োজিত এই সভায় রামপাল প্রকল্পের কারিগরি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
সুলতানা কামাল বলেন, মাত্র কয়েক বছর আগে হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধের কারণে নাকে কাপড় দিতে হয়েছে। রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের চারপাশে ক্ষমতাবানেরা জমি কিনে শিল্প প্লট তৈরি করছেন। ফলে সুন্দরবনের দিকে এখন সব মুনাফাখোর ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
সুলতানা কামাল আরও বলেন, তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে রামপাল প্রকল্প বাতিল ও সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে।

Read more: শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে সুন্দরবন বাঁচাতে হবে: সুলতানা কামাল

‘রামপাল চুক্তি ছুড়ে ফেলো, সুন্দরবন রক্ষা করো’—এই স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাম ধারার বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। প্রয়োজনে রাজনৈতিক গতিধারা পরিবর্তন করে হলেও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করা হবে বলে ওই কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ অবস্থান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা প্রমাণ করা হয়েছে। আমাদের এই সংগ্রাম বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে নয়; এই সংগ্রাম সুন্দরবন রক্ষার জন্য।’

Read more: রামপাল চুক্তি ছুড়ে ফেলো, সুন্দরবন রক্ষা করো: শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচী

সুন্দরবনের অদূরে রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে এবার সোচ্চার হয়েছেন দেশের তারকা শিল্পীরা। নিজেদের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে তাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সেই সব কথা। সঙ্গীত লিল্পী আনুশেহ আনাদেল লিখেছেনঃ

 ‘দেহ মনে আঘাত তবু উঠে দাঁড়াই সুরে, 
গাছে গাছে প্রাণে প্রাণে লড়াই আসে ঘুরে’

সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ ঠেকাতে দেশজুড়েই চলছে আন্দোলন। পুলিশি বাধার মুখে চলছে রাজপথে আন্দোলন। আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালি প্ল্যার্টফর্ম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারাও সামিল হয়েছে ভার্চুয়াল আন্দোলনে। সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবন ইস্যুতে শিল্পকলায় আয়োজিত ‘বাহাস’ চিঠি দিয়ে খারিজ করার ফলে নাটকপাড়ায় চলছে সমালোচনার ঝড়। নানা বাধার মুখেও আন্দোলনের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করছেন তারকারা। ফেসবুকে ‘সেভ সুন্দরবন’ হ্যাশটাগে পাশে দাড়াচ্ছেন সুন্দরবনের। কেউ কেউ প্রিয় সুন্দরবনকে বাঁচাতে নেমে পরেছেন রাজপথে। গান কবিতায়ও সরব প্রতিবাদ চলছে। 

Read more: এবার সুন্দরবন রক্ষায় সোচ্চার হয়েছেন তারকারা