সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের তুলাতলা টেংরাবিল এলাকায় আগুন লাগার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চাঁদপাই রেঞ্জজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই রেঞ্জে সব ধরনের পাশ-পারমিট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত জেলে বাওয়ালী, মৌয়ালী ও সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল আগুন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে এখনো আগুন দেখা যাচ্ছে। বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কখন নাগাদ সুন্দরবনের আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে তা বলা যাচ্ছে না।


বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মানিকুজ্জামান বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় বনে পৌছে আমাদের তিনটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আমরা পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। বনের বিভিন্ন এলাকায় থাকা বড় আগুন নিভিয়ে ফেলি। তারপরও কিছু এলাকায় থেমে থেমে আগুন জ্বলছে। তবে কত পরিমাণ এলাকাজুড়ে আগুন লেগেছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।
বুধবার বিকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাইরেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের পঁচিশ নম্বর কম্পার্টমেন্টের তুলাতলা এলাকায় আগুন লাগে। স্থানীয় দুর্বৃত্তরা এবারো সুন্দরবনে আগুন দিয়েছে বলে বনবিভাগ দাবি করছে।
গত ১৩ ও ১৮ এপ্রিল সুন্দরবনে আগুন দেয়ার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন দুর্বৃত্তকে আসামি করে বনবিভাগ পৃথক দুটি মামলা করে। ওই মামলার আসামিরা বনবিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এআগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা।
আগুনের ঘটনায় সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাইরেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) বেলায়েত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাইরেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) বেলায়েত হোসেন বলেন, আগুন লাগার পর বনবিভাগ স্থানীয় লোকজন নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বনভূমিতে লাগার আগুন যাতে নতুন এলাকায় বিস্তৃতি লাভ না করতে পারে সেজন্য ফায়ার লাইন কেটে দেয়। বনভূমিতে লাগা আগুন এখনো নেভেনি তবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বনকর্মীরা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

Source: the daily nayadiganta