প্যারিসে সই হওয়া জলবায়ু চুক্তিকে অনেক পর্যবেক্ষকই ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে বর্ণনা করছেন।

এই চুক্তি সম্পাদনের পর এখন প্রায় দুশো দেশের সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কিভাবে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা যায়।কিন্তু এই চুক্তিতে বাংলাদেশের মতো ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশের কি কোন লাভ হবে?জলবায়ু নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকেই বলছেন, চুক্তিতে অনেক কিছুই পরিষ্কার নয়।

 প্যারিস থেকে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা
টেলিফোনে দেশটির পরিবেশ ও বন সচিব তাৎক্ষনিক মন্তব্য জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এই চুক্তিতে খুশি। তবে চুক্তির বিস্তারিত নথিপত্র বাংলাদেশ আরো বিস্তারিত খুঁটিয়ে দেখবে এবং শীঘ্রই এক সংবাদ সম্মেলন করে তাদের প্রতিক্রিয়াও জানাবে।

কিন্তু বাংলাদেশে জলবায়ু নিয়ে কাজ করছে এমন অনেকেই বলছেন এই চুক্তিতে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তেমন লাভ হবে না।

উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন কোস্টের সহকারী পরিচালক মুজিবল হক বলছেন, বরং বাংলাদেশের ভয়াবহ লোকসান হয়ে গেলো।

তিনি বলছেন, “চুক্তিতে স্পষ্টভাবে লেখা আছে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না। এটা বাংলাদেশ সহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু যারা ঐতিহাসিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী তাদের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা ক্ষতিগ্রস্ত গুলোর অধিকার। কিন্তু এই চুক্তির ফলে তা ভেস্তে গেলো।”

ক্ষতিপূরণ অগ্রাহ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমান বলছেন, এই অর্থ কিভাবে আসবে তা মোটেও পরিষ্কার নয়। বরং শব্দের মারপ্যাঁচে অনেক কিছুই চাপা পড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেছেন, “এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, কে দেবে, কিভাবে দেবে, কবে দেবে, কিভাবে দেয়া হবে আর কাদের দেয়া হবে সেসব বিস্তারিত এই চুক্তিতে নেই। তাই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।”

চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখার কথা বলা হচ্ছে। কোস্টের মুজিবল হক বলছেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো ছাড় দিতে কতটা সচেষ্ট হবে সেটি নিয়ে তিনি সন্দিহান।

“এবার চুক্তিতে দুই ডিগ্রির মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে। তারপর তারা চেষ্টা করবে ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার।” বলেন তিনি।

এই চেষ্টা কতটা হবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

চুক্তির পরপরই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে চুক্তিতে কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে তা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।

আতিক রহমান বলেছেন, শুধু শিল্পোন্নত নয় এর সাথে উন্নয়নশীল দেশগুলোও যদি কার্বন নির্গমন না কমায় তাহলে আদৌ কোন লাভ হবে না।

তবে শেষ পর্যন্ত যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো গেছে সেজন্যে হাফ ছেড়েছেন অনেকে।

সূত্র: বিবিসি