জাতিসঙ্ঘ পরিবেশ প্রোগ্রাম- ইউএনইপির ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার নিউ ইয়র্কের একটি অভিজাত হোটেলে ইউএনইপি আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ইউএনইপির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও জাতিসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অ্যামি স্টেইনার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। পরিবেশের উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণীর ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা রাখায় এ বছর ইউএনইপির ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হন প্রধানমন্ত্রী।

পুরস্কারটি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের জন্য উৎসর্গ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশের মানুষ যে সংগ্রাম করছে সে সংগ্রামের স্বীকৃতি হচ্ছে আজকের এ পুরস্কার। তাই আমি এ পুরস্কার বাংলার জনগণকে উৎসর্গ করলাম। পরিবেশের উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে তার সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় ভিন্ন মাত্রিক কর্মসূচি হাতে নেয়। নিজস্ব অর্থায়নের জলবায়ু তহবিল গঠন ও ন্যাশনাল কাইমেট চেঞ্জ অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ ছাড়াও এ বিষয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি পাওয়া সত্ত্বেও তেমন কিছুই পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তারপরও থেমে নেই বাংলাদেশ।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. জিয়া উদ্দিন।
চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ জাতিসঙ্ঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান। পরিবেশ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালনকারী চারটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারটির আয়োজন করে জাতিসঙ্ঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড ন্যাশনস এনভায়রনমেন্টাল প্রোগ্রাম (ইউএনইপি)। পরিবেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এমন সব মানুষ ও সংগঠন যাদের উদ্যোগের ফলে পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তাদেরকেই এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়।
এ বছর একই সাথে ‘সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন’ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার পান ‘দ্য ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিক সোসাইটি’। ‘এন্টারপ্রাইজ ভিশন’ ক্যাটাগরিতে ব্রাজিলের প্রসাধনী ফার্ম ‘ন্যাচারা ব্রাজিল’ এবং ‘ইন্সপাইরেশন অ্যান্ড অ্যাকশন’ ক্যাটাগরিতে দণি আফ্রিকার ‘ব্ল্যাক মাম্বা এন্টি পোএচিং ইউনিট’ এ পুরস্কার গ্রহণ করে।
এর আগের বছরগুলোতে এ পুুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন সিলভিয়া আর্লে, সুসিলো ব্যাংম্বাং, আল গোর, মিখায়েল গর্ভাচেব, মারিনা সিলভাসহ আরো অনেকে।