জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্যা আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। পলিসি লিডারশীপ ক্যাটগরিতে এবারের এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন তিনি। রোববার ইউএনইপির ওয়েভ সাইটে ২০১৫ সালের ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্যা আর্থ’ পুরস্কার ঘোষিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণীর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য এবছর এ মনোনয়ন দেয়া হয়।
চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান। পরিবেশ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালনকারী চারটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
পুরস্কারটির আয়োজন করে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রমেন্টাল পোগ্রাম (ইউএনইপি)। পরিবেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এমন সব মানুষ  ও সংগঠন যাদের উদ্যোগের ফলে পারিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে,তাদেরকেই এ পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে এ খবর দিয়ে পরিবেশ বিষয়ে তার অবদানের উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটি খুব ভালোভাবে সামাল দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে তার সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে তাঁর চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ অন্যতম। ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, বন্যা, খরা এসব বাংলাদেশে নিয়মিত ঘটনা। শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরের লক্ষ্যমাত্রায় কাজ করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয় জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক ওয়েব সাইটে।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে ‘দ্য বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্রেটেজি এন্ড অ্যাকশন প্ল্যান অব ২০০৯’ একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরী করেছে। শুধু তাই নয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবলিয়ায় প্রথম কোন দেশ হিসেবে বাংলাদেশই নিজস্ব অর্থায়নে একটি ট্রাষ্ট ফান্ড গঠন করেছে। ২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত এ ফান্ডে নিজস্ব উৎস থেকে ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবলিায় শেখ হাসিনার সরকার মোট বাজেটের ৬-৭ শতাংশ বরাদ্দ রেখেছে।
এছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় আরো পদক্ষেপ হিসেবে ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করা হয় বলে জাতিসংঘ সংবাদ বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বও জাতিসংঘ সদও দফতরে টেকসই উন্নয়ন শীর্ষক সম্মেলনের সমাপনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ পুরস্কার হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এবছর একই সাথে এই পুরস্কারের জন্য সাইন্স এন্ড ইনোভেশন ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে ‘দ্যা ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিক সোসাইটি’। এন্টারপ্রাইজ ভিশন ক্যাটাগরিতে ব্রাজিলের প্রশাধনী ফার্ম ‘ন্যাচারা ব্রাজিল’’। ইন্সপাইরেশন ও এ্যাকশন ক্যাটাগরিতে দক্ষিন আফ্রিকার ‘ব্ল্যাক মাম্বা এন্টি পোএচিং ইউনিট’।

এর আগের বছরগুলোতে এ পুুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন সিলভিয়া আর্লে, সুসিলো ব্যাংম্বাং, আল গোর, মিখায়েল গর্ভাচেব, মারিনা সিলভাসহ আরো অনেকে।